মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৮ অক্টোবর ২০২০

অভিযোজন পদ্ধতিতে চরাঞ্চলের মানুষের জীবিকার মানোন্নয়ন

প্রায়োগিক গবেষণার নাম ও পরিচিতি

ক্র: নং

বিষয়

প্রয়োজনীয় তথ্য

  1.  

প্রায়োগিক গবেষণার শিরোনাম

Livelihood Improvement of Charlands’ People through Adaptation Practices (অভিযোজন পদ্ধতিতে চরাঞ্চলের মানুষের জীবিকার মানোন্নয়ন)

  1.  

উদ্যোগী মন্ত্রণালয়/বিভাগ

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়

  1.  

বাস্তবায়নকারী সংস্থা

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)

  1.  

বাস্তবায়নকাল

৩ বছর (জুলাই ২০১৯-জুন ২০২২)

  1.  

বাজেট

১৪ লক্ষ টাকা (২০২০-২১ অর্থবছর)

  1.  

অর্থায়নের ধরন ও উৎস

রাজস্ব বাজেট, বার্ড

  1.  

প্রায়োগিক গবেষণার কর্ম এলাকা

ক)    চরচাষী গ্রাম, গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন, গাজারিয়া উপজেলা, মুন্সীগঞ্জ।

খ)    নতুন হাসনাবাদ গ্রাম, উত্তর দাউদাকান্দি ইউনিয়ন, দাউদকান্দি উপজেলা, কুমিল্লা।

  1.  

প্রায়োগিক গবেষণা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম ও পদবী

১. জনাব মোঃ রিয়াজ মাহমুদ

উপ পরিচালক (পল্লী ব্যবসা ব্যবস্থাপনা), বার্ড ও

প্রকল্প পরিচালক।

 

২. জনাব মোঃ মোশারেফ হোসেন ভূঁঞা

সহকারী পরিচালক (গবেষণা), বার্ড ও

সহকারী প্রকল্প পরিচালক।

 

প্রায়োগিক গবেষণার পটভূমি

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসাবে স্বীকৃত। এই দেশের অনন্য ভৌগলিক অবস্থান, প্লাবনভূমির আধিপত্য এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে নিম্ন উচ্চতা, উচ্চ জনসংখ্যার ঘনত্ব, দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক সম্পদ ও এর সেবাসমূহের উপর একচ্ছত্র নির্ভরতার কারণেই এমনটা হচ্ছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে ইতোমধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশের অতীত উন্নয়ন ধারা ব্যাহত হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেশের জনগণ জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। ক্রমাগত বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তন ও তাপমাত্রা পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয়ের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে এবং কৃষকরা এই ক্ষতি মোকাবেলায় ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজী বিকল্প চিন্তা করছে। বাংলাদেশ একটি কৃষি নির্ভর দেশ। দেশের প্রায় ৬২ শতাংশ লোক কোন না কোনভাবে কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দেশের কৃষি খাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের চরাঞ্চলগুলোতে মানুষ কৃষি কাজ ও মাছ ধরে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। চরাঞ্চলের কৃষিকাজ পানির উপর নির্ভরশীল। বছরের বৃহৎ একটা সময় চরের নিম্নভূমি পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়া চরের মাটিও অন্যান্য মাটির চেয়ে ভিন্ন। চরের কৃষি ব্যবস্থাপনা গতানুগতিক। পাশাপাশি চরাঞ্চলে কৃষির আধুনিক সুযোগগুলোর অপ্রতুলতা রয়েছে। তার উপর কৃষিজাত পণ্যের বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রেও চরাঞ্চলগুলো সুবিধা বঞ্চিত। অধিকন্তু জলবায়ুর পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের ফলে চরগুলোতে বর্ষা মৌসুমে বন্যা, নদীভাঙ্গন, বজ্রপাত, ঘূর্ণিঝড়, শুকনো মৌসুমে খরা, আর্দ্র্যতার অভাব ইত্যাদি সমস্যা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ফলে কৃষকরা প্রতিবছর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরূপ প্রভাব অব্যাহত থাকলে চরাঞ্চলে দিন দিন সমস্যা বৃদ্ধি পাবে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকা দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। এই ক্ষতি এড়াতে জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজী কৃষি কার্যক্রম বিস্তরভাবে শুরু করা প্রয়োজন এবং কৃষির উপর একচ্ছত্র নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিভিন্ন অকৃষি কার্যক্রমের মাধ্যমে জীবিকার মানোন্নয়ন ঘটানো যেতে পারে।  

 

প্রায়োগিক গবেষণার মূল উদ্দেশ্য

চরাঞ্চলের মানুষদের জীবিকার মানোন্নয়নে অভিযোজন পদ্ধতিতে কৃষিকাজ এবং বিভিন্ন অকৃষি কার্যক্রমে উদ্ধুদ্ব করাই হলো এই প্রকল্পের সাধারণ/মূল উদ্দেশ্য। তাছাড়া, সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যসমূহ হলোঃ

 

ক) জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং দুর্‍্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার বিষয়ে চরাঞ্চলের মানুষদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা;

খ) পরিবর্তিত জলবায়ু উপযোগী কৃষি অভিযোজন কার্যক্রমের সূচনা;

গ) দারিদ্র্য বিমোচনে তরুণ এবং বিপন্ন নারীদের মধ্যে উদ্যোক্তা তৈরি করা; এবং

ঘ) দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়বর্ধন মূলক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রয়োজনীয় কৃষি ও অকৃষি উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে আর্থিক অবস্থার উন্নয় সাধনে সহায়তা করা।

 

প্রায়োগিক গবেষণার মূল উপাদানসমূহ/কম্পোনেন্টসমূহ

চরাঞ্চলের মানুষের জীবিকার মানোন্নয়নে অভিযোজন পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের কৃষি কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন অকৃষি কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে প্রায়োগিক গবেষণাটি পরিচালিত হচ্ছে। নিম্নে এই প্রায়োগিক গবেষণার মূল উপাদানসমূহ লিপিবদ্ধ করা হলোঃ

ক) অভিযোজন কার্যক্রমসমূহ

১. গ্রাম সংগঠন তৈরি ও গ্রাম স্কুল পরিচালনা;

২. জলাবন্ধতা সহিষ্ণু ও স্থানীয় আমন ধানের অভিযোজন চর্চা;

৩.  বর্জ্র ও বায়ু নিরোধক, ফলজ ও ভেষজ বৃক্ষরোপন;

৪. অভিযোজন কার্যক্রম ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য শাক-সবজির চাষ;

৫. ভাসমান বেডে অভিযোজীত চাষাবাদ;

৬. সর্জন পদ্ধতির মাধ্যমে সমন্বিত কৃষি কর্মকাণ্ডের অভিযোজন চর্চা;

৭. নদীতে দলগতভাবে ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে খাঁচায় অভিযোজীত মাছ চাষ;

৮. বায়োফ্লক পদ্ধতিতে ড্রামে শিং, মাগুর, কৈ ইত্যাদি প্রজাতির মাছ চাষের অভিযোজন চর্চা।

 

খ) আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রমসমূহ

১. হাঁস-মুরগি ও কোয়েলের বাচ্চা পালনের মাধ্যমে আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রম;

২. উদ্যোক্তা তৈরি ও আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রমের জন্য মাশরুম চাষ;

৩. মহিলা উদ্যোক্তা তৈরির জন্য বিপন্ন বিধবা নারীদের সেলাই মেশিন প্রদান;

৪. বার্ড কর্তৃক উদ্ভাবিত কল্যাণ ইনকিউবেটরের মাধ্যমে উদ্যোক্তা সৃষ্টি;

গ) প্রশিক্ষণ কার্যক্রম

জলবায়ু পরিবর্তনে ফলে অভিযোজন ও দুর্‍্যোগের ঝুঁকি হ্রাসকল্পে সচেতনতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা।

 

গ্রামীণ উন্নয়নে প্রায়োগিক গবেষণা কার্যক্রমের প্রভাব ও গুরুত্ব

ক) সুফলভোগীদের নিয়ে দুই গ্রামে চারটি সমিতি গঠনের মাধ্যমে উপকারভোগীরা নিজেদের মধ্যে সংঘবদ্ধ হতে পারবে এবং নিবন্ধিত সমিতি গঠনের মাধ্যমে চরের মানুষ নিজেরাই পুঁজি সৃষ্টি করতে পারবে। এছাড়াও, গ্রাম স্কুল পরিচালনার মাধ্যমে চরের মানুষকে আর্থ-সামাজিক ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে উদ্বুদ্ব করা যাবে;

খ)  চরের মানুষকে দিয়ে জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু আমন ধানের বীজ রোপণ করানো গেলে বর্ষাকালে পতিত জমিগুলো থেকে অধিক ধান পাওয়া যাবে এবং অতিরিক্ত খাদ্যের মজুদ বৃদ্ধি পাবে -এতে করে উপকারভোগীদের দেখে অন্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ব হবে;

গ) বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে চরাঞ্চলে বজ্রপাতের মতো দুর্যোগ প্রতিহত করার পাশাপাশি চরে কাঠ উৎপাদক গাছের ঘাটতি, দেশীয় ফলের ঘাটতি ও ওষুধী গাছের ঘাটতি লাঘব হবে;

ঘ) বছরব্যাপী বিভিন্ন ধরনের শাক সবজি চাষের মাধ্যমে চরের মানুষের ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব হবে। এছাড়াও, উদ্বৃত্ত শাক সবজি বিক্রয়ের মাধ্যমে উপকারভোগীদের অর্থের সংস্থান হবে;

ঙ) বর্ষাকালে নদীতে কচুরিপানা দিয়ে তৈরি ভাসমান বেডে বিভিন্ন শাকসবজি চাষের মাধ্যমে অধিক পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে এবং জুন-ডিসেম্বর সময়ে নিমজ্জিত নিম্নভূমিতে শাক-সবজি চাষাবাদ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে;

চ) চরাঞ্চলে দলীয়ভাবে ও অংশীদারীত্বের ভিত্তিতে সর্জন পদ্ধতিতে সমন্বিত চাষাবাদ করা গেলে অল্প জায়গায় অধিক কৃষি কার্যক্রম করা সম্ভব হবে এবং উপকারভোগীরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। এ পদ্ধতিতে চার স্থরের চাষাবাদ সম্ভব (হাঁস-মুরগি+মাছ+শাক-সবজি ও ফল+ধান/কচু);

ছ) দলগতভাবে নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ করার মাধ্যমে উপকারভোগীরা আর্থিকভাবে লাভবান হবে;

জ) বায়োফ্লক পদ্ধতিতে ড্রামে শিং, মাগুর, কৈ ইত্যাদি প্রজাতির মাছ চাষের মাধ্যমে উপকারভোগীরা তাঁদের আমিষের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভবান হবে;

ঝ) হাঁস-মুরগী, কবুতর ও কোয়েলের বাচ্চা পালনের মাধ্যমে উপকারভোগীরা মাংস, ডিম তথা আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হবে;

ঞ) মাশরুম চাষের মাধ্যমে উপকারভোগীরা তাঁদের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভবান হবে এবং চরে উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে;

ট) মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণের মাধ্যমে চরে মহিলা উদ্যোক্তা বৃদ্ধি পাবে;

ঠ) বার্ড কর্তৃক উদ্ভাবিত কল্যাণ ইনকিউবেটরের মাধ্যমে চরে উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে একই সাথে 200-300টি ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা তৈরি করে আর্থিকভাবে লাভবান হবে এবং;

ড) বিভিন্ন ধরণের অবহিতকরণ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসকল্পে গৃহীত পদক্ষেপ, দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রম সম্বন্ধে চরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।



Share with :

Facebook Facebook